শিক্ষিত যুব সমাজের ভবিষ্যত কী?

প্রকাশিতঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ আপডেটঃ ১১:২৮ অপরাহ্ণ

কোনো জাতির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য যুবসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যদি অতীতের দিকে তাকাই, তাকাই বর্তমানের দিকে, সকল ক্ষেত্রে যুবসমাজের প্রয়োজনীয়তা ও তাদের অবদান উজ্জলতর হয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠবে। আর তাই সমাজের প্রতি যুবসমাজের প্রয়োজনীয়তা কোনোভাবেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়।
আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই হচ্ছে যুবক-তরুণী। জনসংখ্যার এই বড় অংশের প্রতি দেশ ও সমাজের প্রত্যাশা অনেক। এই প্রত্যাশা পূরণে যুবসমাজের অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজও করছে। দেশ ও জাতিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে উচ্চতর ও উন্নততর অবস্থানে। কিন্তু সবার পক্ষে এ মহৎ কাজে অংশগ্রহণ করা আদৌ সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই অংশগ্রহণে প্রধান বাঁধা বা অন্তরায় হিসেবে যে সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ায় তা হলো কর্মক্ষেত্রের অভাব বা বেকারত্ব।

আমাদের দেশে যে সকল সমস্যা প্রতিনিয়ত বিচলিত করছে তার মধ্যে অন্যতম হল বেকার সমস্যা। আর এই সমস্যা প্রধানত তাড়া করে ফিরছে যুব সমাজকেই। বেকার সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে দেখা যায় এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন, জনসংখ্যা সমস্যার সাথে বেকার সমস্যার ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। তাছাড়া স্বল্প শিক্ষিতের পাশাপাশি শিক্ষিত তরুণ/তরুণীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী নিয়ে চাকরির খোঁজে চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বা পরিধি ছোট হওয়ায় এই প্রতিযোগিতায় স্বল্পশিক্ষিতরা তো পিছিয়ে যাচ্ছেই অধিকাংশ শিক্ষিতরাও চাকরি না পেয়ে বেকারই থেকে যাচ্ছে।

হালের খবর, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর সম্পন্নের অধিকাংশই চাকরিতে ঢোকার ৩০ বছর বয়সসীমা পার করছেন শুধু আবেদন করেই। মাস্টার্স সম্পন্ন হয়েও আবেদন করছেন এমএলএসএস পদে; কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হচ্ছেন। সে তুলনায় কম শিক্ষিত ও অশিক্ষিতরা কোনো না কোনো কাজ পাচ্ছে; আর সমাজে নিগ্রহের পাত্র হয়ে হতাশায় ডুবছেন শিক্ষিতরা।পরিসংখ্যানও বলে, দেশে চাকরির বাজারে শিক্ষিতরাই রয়েছেন সবচেয়ে বেশি বেকায়দায়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ৩৪টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেছেন চার লাখ ১৯ হাজার ৫৮২ জন। ওই বছর ৭৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন ৬৫ হাজার ৩৬০ জন। সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৩০২ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করলেও বছরে এ পরিমাণ চাকরির সুযোগ নেই দেশে।

সরকারি বাদে বেসরকারি খাত দেশের সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের জোগানদাতা। কিন্তু দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, বেসরকারি খাত সে হারে সম্প্রসারিত হচ্ছে না। প্রতিবছর গড়ে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে চাকরির খোঁজে। এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখই উচ্চশিক্ষিত। শিক্ষাজীবন শেষে সবারই লক্ষ্য থাকে সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার। তবে কাজের অভাব এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে প্রয়োজনে জমিজমা, ভিটেমাটি বিক্রি করতেও পিছপা হন না বাবা-মা’রা। আশা শিক্ষিত সন্তান সংসারের হাল ধরবে। সন্তানের সম্মানজনক ও উন্নত জীবনের ছোঁয়া থাকবে পুরো পরিবারকে ঘিরে। কিন্তু শিক্ষাজীবন শেষে সন্তান যখন কর্মসংস্থানের অভাবে দিনপাত করে; সংসারের জন্য তখন সে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

এক্ষেত্রে, কাউকে এই দোষের ভাগিদার করা সত্যিই মুশকিল! ভুল যা আছে তা আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়। সব কিছুর আধুনিকায়ন ঘটে। অবকাঠামোর সাথে সাথে সামাজিক সংস্কারও হচ্ছে তা সত্যি। তবে জনসংখ্যা ও বেকারত্বের মতো কিছু সমস্যা আছে, যার সমাধানে দরকার বড় ধরনের উদ্যোগ।

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোয় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। কেননা তারা জানে, শিক্ষিত ও দক্ষ যুবসমাজই পারবে জাতির গৌরব ধরে রাখতে। কাজেই কাজে লাগাতে হবে তাদের শ্রম ও মেধা। আর তাই তো যৌবনের অবদান সমাজে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সেসব দেশ সদা সচেতন ও সতর্ক। যাদের আমরা উন্নত ও বুদ্ধিমান জাতি বলছি, এই অবস্থানে আসতে তাদের এই চর্চা চালিয়ে যেতে হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

বিভাস, ঢাকা (পরিবর্তন ডটকম ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬)