অবশেষে হ্যাক হতে হলো জোহাকেও!

প্রকাশিতঃ ২০ মার্চ ২০১৬ আপডেটঃ ৫:১৩ অপরাহ্ণ

তানভির হাসান জোহা বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের একটি অন্যতম আলোচিত নাম । বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে ব্যক্তিকে আমরা বিভিন্ন সময় এ নিয়ে যুক্তি নির্ভর কথা বলতে শুনেছি তিনিই তানভির হাসান জোহা দেশের অন্যতম একজন সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট । তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর (অপারেশন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন যদিও এই প্রকল্পটি গত দুই মাস ধরে স্থগিত আছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিভার্জ থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে টাকা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তদন্তের কাজে ও নাকি তাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল এমন কথা ও শোনা গেছে । যদি ও গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞ অভিমত দেওয়া তানভীর হাসান জোহার সংশ্লিষ্টতার কথা নাকচ করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

তবে এর আগে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাথে জঙ্গি তৎপরতাসহ সাইবার অপরাধের বড় বড় ঘটনা তদন্তে সহায়ক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন জোহা । যাই হউক এখানে মূল কথা যেটা তা হলো গত ১৬ মার্চ মধ্যরাত থেকে নিখোঁজ তানভির হাসান জোহা । তার পরিবারের দাবী অফিস থেকে বেরিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠে কলাবাগানের লেক সার্কাসের বাসার দিকে রওনা হন। অটোরিকশাটি ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেতে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে দুই-তিনটি গাড়ি এসে গতিরোধ করে তাকে তুলে নিয়ে যায় । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মন্তব্য তদন্তের স্বার্থে জোহাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, তবে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেন নি। নিখোঁজের ব্যপারে জোহার পরিবার থানায় জিডি করতে গেলো ও পুলিশ কর্মকর্তাদের এ থানা ও থানা ঠেলা-ঠেলির কারনে জিডি করা সম্ভব হয় নি তাদের ।

প্রযুক্তিমনা ও সাইবার অপরাধ স্পেশালিস্ট জোহা চেয়ে ছিলেন জাতির সামনে প্রযুক্তির মাধ্যমে লুট হয়ে যাওয়া আমাদের অর্থের লুটের বাস্তবতা জানাতে । যদিও দীর্ঘ এক মাস এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ও তার আশেপাশের লোকজনেরা লুকোচুরি খেলেছে । ফিলিপাইনের দৈনিক ইনকোয়ারার পত্রিক যদি এ নিয়ে কোন রিপোর্ট না করতো হয়তো আমরা কখনো ই এই চুরির ঘটনা জানত ই পারতাম না কোন না কোন ভাবে ড. আতিউর রহমান গং রা এ ঘটনাকে ধামা চাপা দিয়ে ফেলতেন । জোহার দাবী ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি নিয়ে প্রকৃত তথ্য সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রকাশ করায় একটি মহল তার ওপর ছিল ক্ষুব্ধ । তারা নানা ষড়যন্ত্র মাধ্যমে তদন্ত সহায়তা থেকে ও নাকি তাকে সরিয়ে দিতে চাইছেল। কারণ তিনি অনেক বিষয়েই প্রশ্ন তুলছিলেন বিশেষ করে রাকেশ আস্তানার ব্যাপারে । জোহার সঙ্গে প্রথম থেকেই তথ্য ও উপাত্ত নিয়ে অমিল হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি কনসালটেন্ট রাকেশ আস্থানার সঙ্গে । এমন কি জোহার অনেক প্রশ্নের উত্তর ও দিতে পারেননি রাকেশ আস্থানা। স্বাভাবিক ভাবে আমাদের ও প্রশ্ন যে আমাদের বাঘা বাঘা আইটি বিশেষজ্ঞরা দুনিয়ার খ্যাতনামা কোম্পানিতে কাজ করে যাচ্ছে সেখানে

রাকেশ আস্তানার মত বিশ্বব্যাংকের সাবেক একজন তথ্য কর্মকর্তাকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কে নিয়োগ দিল ? কেন ই বা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নিরাপত্তার সবকিছু তুলে দেয়া হলো একজন বিদেশি তথ্য কর্মকর্তার হাতে ? আমি জোহাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনিনা টেলিভিশনে তার মতামত শুনেছি তবে এটা সত্য যে জোহা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার পরিবার পরিজন নানা উৎকন্ঠার মধ্যদিয়ে কাল জাপন করছে । বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি নিয়ে প্রকৃত তথ্য সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা তথা সত্য বলার কারনে জোহার মত একজন মেধবী যুবক গায়েব হয়ে যাবে ! যারা চুরি করলো তারা নিরাপদে দিন জাপন করছে শিক্ষক হিসেবে পুরস্কৃিত হচ্ছে আর যে চোরকে ধরার জন্য সাহায্য করলো তিনি নাকি গুম হয়ে গেললেন ! এ কেমন আজব কথা ! না এটা কোন ভাবেই মানা যায় না । তাই সরকারে কাছে দাবী যত দ্রুত সম্ভব জোহাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন।আর মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার সূত্রে বলছি জোহাকে নয়, দেশের শত্রু রাঘব বোয়ালদের আইনের আওতায় আনুন যারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুধু টাকা ই চুরি করে নি চুরি করেছে ষোল কোটি মানুষের স্বপ্ন ।

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন (বিডিনিউজ২৪.কম ২০ মার্চ ২০১৬)