“আমার আর বেশ্যার মধ্যে কি ফারাক?”

প্রকাশিতঃ ২২ আগস্ট ২০১৭ আপডেটঃ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

তিনি ভারতের চলচ্চিত্র জগতের “ট্র্যাজেডি কুইন”৷ তাঁর অভিনয় বারবার উচ্চপ্রশংসিত হয়েছে৷ অভিনেত্রী হিসেবেও তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়া৷ ফিল্মি দুনিয়ার সুপারস্টার৷ কিন্তু মীনা কুমারীর ব্যক্তিগত জীবন তাঁর “ট্র্যাজেডি কুইন” নামকে সার্থক করে৷ পর্দায় তিনি “কুইন” হলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল “ট্যাজেডি”-তে মোড়া৷

তিন তালাকের বৈধ হবে কি না, তা নিয়ে এতদিন দেশজুড়ে আলাপ আলোচনা চলেছে৷ লড়াই চলেছে আদালতে৷ সবেশেষে হয়েছে সিদ্ধান্ত৷ সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাকের বিরুদ্ধে রায় জানিয়েছে৷ কিন্তু এতদিন লাখ লাখ মুসলিম মেয়ে তিন তালাকের শিকার হয়েছেন৷ তাঁদের অবস্থা কেমন ছিল? কার অবস্থা কেমন ছিল, তা হয়তো জানা সম্ভব নয়৷ কিন্তু মীনা কুমারীর উপর দিয়েও বয়েছিল তিন তালাকের ঝড়৷ তাঁর মতো সেলেব্রিটিও সেই ঝড় সামলাতে পারেননি৷ তিনি সেলেব্রিটি ছিলেন৷ তাই তাঁর ঘটনা সামনে এসেছিল৷ তিন তালাকের পরোক্ষ প্রভাবেই মাত্র ৩৯ বসন্ত দেখেই থেমে গিয়েছিল মীনা কুমারীর “গজল”৷

“পাকিজা” ছবির নির্দেশক কমাল আমরোহির সঙ্গে নিকাহ হয়েছিল মীনা কুমারীর৷ সংসারে অশান্তি কার না হয়? মীনা-কমালের পরিবারেও হত৷ একদিন রাগের বশে কমাল মীনাকে তিন তালাক বলে দেন৷ নীতি অনুযায়ী, তালাক হয়ে যায় মীনার৷ ঘটনার অবশ্য এখানেই শেষ নয়৷ তিনি কী করেছেন, পরে বুঝেছিলেন কামাল৷ বুঝেছিলেন, ছোটোখাটো ঝামেলার জন্য তাঁর তালাক বলা উচিত হয়নি৷ অনুতাপও হয়েছিল৷ তাই মীনাকে তিনি আবার নিকাহ করতে চান৷ কিন্তু মৌলবীরা প্রেমের কথা শুনবেন কেন? ধর্ম এখানে চোখ রাঙাল৷ তারা নিদান দিলেন, যদি পুরোনো বিবিকে আবার নিকাহ করতে হয়, তাহলে মীনাকে “হালাল” করতে হবে৷ তাই মীনার বিয়ে বন্ধু অমান উল্লা খানের সঙ্গে দিয়ে দেন কমাল৷ এই অমান উল্লা খান ছিলেন জিনাত আমানের বাবা৷

মীনা কুমারীর কোনও উপায় ছিল না৷ একপ্রকার বাধ্য হয়েই নিজের নতুন শোহরের শয্যাসঙ্গিনী হতে হয় তাঁকে৷ কিন্তু বেশিদিন নয়৷ পরে তিনি সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন৷ বিয়ে করেন পুরোনো শোহর কমালকে৷

একবার মীনা কুমারী লিখেছিলেন, “যখন ধর্মের নামে আমাকে আমার শরীর কোনও পরপুরুষকে দিতে হয়, তখন আমার আর বেশ্যার মধ্যে কি পার্থক্য?” তিন তালাকের ঘটনা মীনা কুমারীকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছিল৷ মানসিক শান্তির জন্য তিনি তখন থেকে অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়েন৷ আসক্তিতে কোনওভাবেই লাগাম পড়াতে পারেননি তিনি৷ অতিরিক্ত মাদক সেবনের জন্য অকালে মারা যান৷ তখন তাঁর বয়স মাত্র ৩৯ বছর৷ দিনটা ছিল ১৯৭২ সালের ৩১ মার্চ৷

হালাল কী?

বর্তমান মুসলিম আইন অনুযায়ী যদি কোনও মুসলিম মহিলার তালাক হয়ে যায়, আর সে যদি আবার একই পুরুষের সঙ্গে নিকাহ করতে চায়, তবে তাকে হালাল করতে হবে৷ এই হালাল প্রথা অনুসারে, সেই মহিলাকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে প্রথমে নিকাহ করতে হবে৷ নিশ্চিতভাবে সেই পুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হতে হবে৷ তারপর সেই মহিলা দ্বিতীয় শোহরের থেকে তালাক নিয়ে আবার প্রথম শোহরকে নিকাহ করতে পারে৷ এই প্রথার নামই হালাল৷

আরএম-২০/২২-০৮ (বিনোদন ডেস্ক, সূত্র: কলকাতা২৪)