ক্যাসিনির শনির দশা (ফটো অ্যালবাম)

    প্রকাশিতঃ ৩০ এপ্রিল ২০১৭ আপডেটঃ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

    ক্যাসিনি মহাকাশযান গত বিশ বছর ধরে মহাকাশের দূর দূর প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছে৷ এখন তার অন্ত ঘটতে চলেছে – কিন্তু তার আগে ক্যাসিনি শনিগ্রহের বলয়গুলি পার হয়েছে৷ সে এক বিপদসঙ্কুল যাত্রা৷

    ক্যাসিনি বেঁচে আছে! ছবিগুলো দেখলে বোঝা যায়, শনি গ্রহ ও তার বলয়গুলির মধ্য দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছে ক্যাসিনি ৷ বলয়গুলির ভিতর দিয়ে যাবার সময় ক্যাসিনি আর মিশন কন্ট্রোলের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না৷ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি অবধি ক্যাসিনি আরো ২১ বার এইভাবে শনির বলয় পার হবে, যার ফলে মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে ক্যাসিনির স্থান বাঁধা৷

    একটি গ্রহের জন্ম হয় কিভাবে? ‘‘কোনো মহাকাশযান এই অনন্য এলাকা দিয়ে আগে যাত্রা করেনি,’’ নাসার প্রশাসক টমাস জুরবুখেন বলেছেন৷ ‘‘ক্যাসিনির সবশেষের দুঃসাহসী উপক্রমাগুলি থেকে আমরা যে তথ্য পাব, তা থেকে আমরা আরো ভালোভাবে বুঝতে পারব, সুবিশাল গ্রহ ও গ্রহপুঞ্জগুলি কিভাবে জন্ম নেয়৷ এভাবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আবিষ্কার চলবে৷’’

    বিধ্বংসী কণিকা গ্যাসে তৈরি সুবিশাল শনি গ্রহ ও তার বলয়দের মধ্যে প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার বা ১,৪৯০ মাইলের ফারাক৷ ‘‘আমাদের হিসেব অনুযায়ী, এই ফাঁকটিতে এমন কোনো বড় কণা বা কণিকা নেই, যা ক্যাসিনির ক্ষতি করতে পারে,’’ বলেছেন নাসার প্রোজেক্ট ম্যানেজার আর্ল মেইজ৷ ‘‘আমরা জানি না এমন কিছু কিছু জিনিস আছে – যে কারণে আমরা যাত্রার শেষে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণা করছি৷’’

    অতিকায় গোলাপ বিশ বছর ধরে ক্যাসিনি চমকপ্রদ সব ছবি পাঠিয়ে আসছে৷ এই ছবিটিতে শনিগ্রহের উত্তর মেরুর উপর ঘুরন্ত ঘূর্ণিঝড় দেখা যাচ্ছে৷ মাপজোক করে দেখা গেছে যে, ঘূর্ণিটির আবর্তের ব্যাস ২,০০০ কিলোমিটার (১,২৪৩ মাইল)৷ অপরদিকে এই ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫৪০ কিলোমিটার বা ৩৩৫ মাইল৷

    ‘ছোটিসি ইয়ে দুনিয়া...’ ক্যাসিনির তোলা এই ওয়াইড অ্যাঙ্গল ছবিটিতে আমাদের পৃথিবীকে শুধু একটা ফুটকি হিসেবে দেখা যাচ্ছে (তাই অ্যারো দিয়ে দেখাতে হয়েছে)৷ ক্যাসিনি তখন পৃথিবী থেকে মাত্র ১৪৪ কোটি কিলোমিটার দূরে৷

    শনির ‘চন্দ্র’ গরম থেকে ঠাণ্ডা: শনিগ্রহের মিমাস ও থেটিস ‘চন্দ্র’ দু’টিতে তাপমাত্রার এক আশ্চর্য নকশা দেখা যায়৷ ছবিটির ডাটা পাঠিয়েছে ক্যাসিনির ইনফ্রা রেড ক্যামেরা৷