ক্যান্সারের জন্য জরিমানা : জনসন অ্যান্ড জনসনের পণ্যে ভোক্তাদের আতঙ্ক

প্রকাশিতঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ আপডেটঃ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

বিশ্বখ্যাত জনসন অ্যান্ড জনসনের বিভিন্ন পণ্য নিয়মিত ব্যবহার করতেন জ্যাকুলিন ফক্স। যৌনাঙ্গসহ দেহের সর্বাঙ্গেই তিনি এ পাউডার ব্যবহার করতেন। তবে জ্যাকুলিনের জরায়ুর ক্যান্সার ধরা পড়ে। এর তিন বছর পর তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে তার ধারণা হয়, পাউডারের রাসায়নিক ক্রিয়ায়ই তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। এ বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করার পর প্রতিষ্ঠানটিকে বিপুল অর্থ জরিমানা করা হয়। এছাড়া ব্যবহারকারীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের বাসিন্দা জ্যাকুলিন ফক্স (৬২) জরায়ুর ক্যান্সারে  মারা গেছেন গত বছর। তার এ মৃত্যুতে ৭২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুণতে হচ্ছে জনসন অ্যান্ড জনসনকে। প্রতিষ্ঠানটির বেবি পাউডার থেকে শুরু করে শাওয়ার-টু-শাওয়ার বডি পাউডার সবই তিনি ব্যবহার করতেন।

মৃত্যুর তিন বছর আগে জ্যাকুলিনের জরায়ুর ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তিনি দেশজুড়ে এক হাজার দুইশ’র বেশি নারীর সঙ্গে আলোচনা করেন। তার অভিযোগ ছিল, প্রসাধন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি তাদের ট্যালক ও বেবি পাউডারে ব্যবহার করা খনিজ উপাদানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে সাবধানতা দেয়নি। এ নিয়ে একটি মামলাও হয়।

একজন আইনজীবী জেরে বিসলি জানান, জনসন অ্যান্ড জনসন এ ঝুঁকির বিষয়টি জানত ১৯৮০ সাল থেকেই। তার পরেও তারা বিষয়টির সমাধান করেনি এবং ভোক্তাদেরও কিছু জানতে দেয়নি। এমনকি নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছেও তারা তা গোপন করে।

সোমবার মিসৌরির সেন্ট লুইস আদালত কক্ষে এ মামলার রায় দেন জুরি বোর্ড। ১২ সদস্যের ওই বোর্ডে একজন পুরুষ ও নয় নারী জুরি জ্যাকুলিনের পক্ষে নিজেদের মত দেন। আর বাকি দুই পুরুষ জুরি জনসন অ্যান্ড জনসনের পক্ষে রায় দেন। আদালত কক্ষে রেকর্ডকৃত তার এক অডিও বার্তায় জানা যায়, ৩৫ বছর ধরে তিনি জনসন অ্যান্ড জনসনের পণ্য ব্যবহার করেছেন।

চূড়ান্ত রায়ে ৭২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে বলা হয় জনসন অ্যান্ড জনসনকে। এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ৬২ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক জরিমানা হিসেবে গুণতে হবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটিকে। জ্যাকুলিনের পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াই চালানো শীর্ষ একজন আইনজীবী জিম অনডার জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণের ৩১ মিলিয়ন ডলার (২৪২ কোটি ১২ লাখ টাকা) যাবে মিসৌরি ক্রাইম ভিক্টিম কম্পেসেশন ফান্ডে। বাকিটা পাবে জ্যাকুলিনের পরিবার।

জনসন অ্যান্ড জনসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের এ রায়ে আমরা হতাশ। জ্যাকুলিন ফক্সের পরিবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তার জন্য আমরা সমব্যথী। কিন্তু আমাদের এই প্রসাধন ট্যালক-ই দশকের পর দশক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানটির এ জরিমানায় ব্যবহারকারীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এ ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করার আগে ভেবে নিচ্ছেন যে পণ্যটি ব্যবহার করা জরুরি কি না।

অনলাইন ডেস্ক (সূত্র: কালের কণ্ঠ)