সানিয়া ভারতকেই সমর্থন করবে

প্রকাশিতঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ আপডেটঃ ১০:০৫ অপরাহ্ণ

ভারত-পকিস্তান ম্যাচ মানেই তাঁকে এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। বিবি কাকে সমর্থন করবেন?

বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় একই প্রশ্ন উড়ে এল শোয়েব মালিকের দিকে। পাক অলরাউন্ডার যার উত্তরে বললেন, ‘‘সানিয়া ভারতের মেয়ে। ও সব সময়ই তাই ভারতকে সমর্থন করবে। সেটাই খুব স্বাভাবিক।’’ তারপরেই হেসে যোগ করলেন, ‘‘তবে একইসঙ্গে সানিয়া খুশি হবে যদি ওর স্বামী ভাল পারফরম্যান্স করে। সেটাও তো খুব স্বাভাবিক, তাই না?’’

একটা সময় ছিল যখন ভারত-পাক মহারণ মানেই শোয়েব মালিককে নিয়ে আলাদা প্ল্যানিং করতে বসতে হতো ওয়াঘার এ পারের অধিনায়কদের। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অধিনায়ক থাকাকালীন ভারতের সবচেয়ে বড় গাঁট ছিলেন মালিক। তাঁর আটটি ওয়ান ডে সেঞ্চুরির মধ্যে চারটিই ভারতের বিরুদ্ধে। যদিও সানিয়ার স্বামী এশিয়া কাপে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখলেন ভারতকেই। ‘‘ওরা একটা ম্যাচ খেলে ফেলেছে। সেটা জিতেওছে। তাই অনেকটা মানিয়ে নিতে পেরেছে। সেই তুলনায় আমাদের প্রথম ম্যাচেই ভারতকে খেলতে হবে। তাই আমাদের কাছে পরিস্থিতিটা বেশি চ্যালেঞ্জিং।’’

কিছুটা কি ব্যাকফুটে মালিক? শুনে তো তাই মনে হল। আরও একজন পাকিস্তান ক্রিকেটারের মন্তব্য পাওয়া গেল। তিনি যদিও প্রাক্তন। কিন্তু শারজা ক্রিকেটের সময় মালিকের মতোই ভারতকে ক্ষতবিক্ষত করতেন। আকিব জাভেদ। এখন তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কোচ। আকিব বলছিলেন, ‘‘মানসিকতাটা পাল্টে গিয়েই ভারত-পাক ম্যাচের রেকর্ডটা পাল্টে গেল। আমাদের সময় আমরা ভাবতামই না, ভারতের সঙ্গে হারব। ভীষণ ইতিবাচক ছিল সেই দলটা। ইমরান খান হারতে ঘৃণা করত। ক্যাপ্টেনের সেই মানসিকতাটা টিমের সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল।’’ তাঁর আরও বিশ্লেষণ, ‘‘আমাদের সেই মানসিকতাটাই পরবর্তীকালে ভারতীয় দলের সঙ্গী হল। গত কয়েক বছর ধরে ছবিটা উল্টো হয়ে গিয়েছে। এখন ভারতের মনোভাব হচ্ছে, পাকিস্তানের কাছে আমরা হারব না। কেন হারব? পাকিস্তান অনেক বেশি রক্ষণাত্মক।’’

আকিব যদিও মনে করছেন, শের-ই-বাংলায় ভারতকে এক ফুৎকারে ফেভারিট বলে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, অবশ্যই উইকেটের ঘাস। ‘‘পাকিস্তানের পেস বোলিং ভাল। ওরা যদি সবুজ উইকেটের ফায়দা তুলতে পারে, ভারতের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে শনিবারের ম্যাচ,’’ বললেন ১৯৯১-এ শারজার ফাইনালে হ্যাটট্রিক-সহ সাত উইকেট নিয়ে ভারতকে ধ্বংস করে দেওয়া প্রাক্তন পাক পেসার।

মালিকের কথাবার্তা শুনে সত্যিই মনে হতে বাধ্য যে, তিনি নিজেও চাপ হাল্কা করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন। বললেন, ‘‘ভারত-পাক এমনই দ্বৈরথ যে পনেরোটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সমান। সবাই জানে এই একটি ম্যাচে ভাল করতে পারলেই তারকা হয়ে যাওয়া যায়। তেমনই সকলের প্রত্যাশার চাপটাও খুব বেশি থাকে।’’ ইমরান-আক্রমদের আমলে ভারত ম্যাচের আগে এই ধরনের কথাবার্তা বললে কী হতে পারত? নিশ্চিত থাকা যায়, তিনি প্রথম একাদশে জায়গা পেতেন না।

স্পোর্টস ডেস্ক (সূত্র : এবেলা)